আমি, তুমি, সে , ছেলে, মেয়ে ইত্যাদি হচ্ছে সংজ্ঞা বা প্রজ্ঞপ্তি। আর দেখা , শোনা, ঘ্রাণ নেওয়া, খাওয়া, স্পর্শ করা, জানা – ইত্যাদি এগুলি হচ্ছে পরমার্থ।
আমি, তুমি নয় – “নাম-রুপ” এটা জানাই পরমার্থ।
নামরুপ পরিচ্ছেদ জ্ঞানে – এটা নাম, এটা রুপ- এভাবে নামরুপকে ভাগ ভাগ করে জানতে পারাই হচ্ছে নামরুপ পরিচ্ছেদ জ্ঞান। বিদর্শন আচার্য তংপুলু কাবায়ে সেয়াড বলেন, নামরুপকে শুধু ভাগ ভাগ করে জানার চেয়ে নামরুপকে বিশেষভাবে জানতে পারলে পৃথকজন ( অর্থাৎ সাধারণ মানুষ) হয়ে ও ৪ প্রকার ( কাম, ভব, দৃষ্টি ও অবিদ্যা) আসবমুক্ত অর্হতদের মত সুখ লাভ করা যায় । বুদ্ধ বলেছেন –
“নেতং মম, নেসোহমস্মি, ন মে’সো অত্তা’তি পস্সতো চিত্তং সুবিমুচ্চতি অনুপাদা আসাবেহি।”
এই নাম এবং রুপ আমার নয়, এগুলো আমি নই – নাম এবং রুপ মাত্র।এই নাম এবং রুপ দুটো আমার আত্মা নয়,নাম-রুপ মাত্র।যারা এভাবেই দেখতে পারে, জানতে পারে সেই যোগী পুরুষেরা তৃঞ্চা, মান ও দৃষ্টি থেকে মুক্ত হয়, রুপ উপাদান থেকে মুক্ত হয় এবং ৪ আস্রব ( কাম, ভব, দৃষ্টি ও অবিদ্যা) থেকে তার চিত্ত সুবিমুক্ত হয়।এই নামরুপকে ঠিক ঠিক ভাবে বুঝতে পারলে, জানতে পারলে পৃথকজন ( সাধারণ মানুষ) হলে ও চারি প্রকার আস্রব মুক্ত অর্হতদের মতো তারা সুখ লাভ করতে পারে।
নামরুপ উপলব্ধি করার তিনটি উপায়:
নামরুপকে বুঝতে হলে তিন প্রকার জ্ঞানের প্রয়োজন , যথা: ১) শ্রুতময় জ্ঞান, ২) চিন্তাময় জ্ঞান, ৩) ভাবনাময় জ্ঞান। সেই তিন রকমের মধ্যে শ্রুতময় জ্ঞান চিন্তাময় জ্ঞানের দ্বারা নামরুপকে জানা অপেক্ষা ভাবনাময় জ্ঞানের দ্বারা নামরুপকে জানাই যথার্থ জানা।
নামরুপের সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
নাম এবং রুপের সম্মেলন হতে দু:খসমূহ উৎপন্ন হয় বলে নামরুপকে সংক্ষেপে পঞ্চ উপাদান দু:খ বা পঞ্চ উপাদানপুঞ্জ সমন্বিত দু:খ বলা হয়। নামরুপ বা পঞ্চ
উপাদানস্কন্ধ বললে বুঝায় ‘রুপ ‘ ( ভৌতিক দেহ), বেদনা ( অনুভূত অনুভূতি), সংজ্ঞা ( অনুভূতি অনুভূত হয়েছে বলে জানন), সংস্কার ( অনুভূত অনুভূতিকে জেনে উহাতে সিদ্ধান্তের জাগ্রত প্রেরণা), বিজ্ঞান ( সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণতা প্রাপ্তি অথবা মন বা চিত্তের উৎপত্তি)। এক কথায় ইহা চিত্ত ও চিত্ত চেতনা।
এখানে রুপ বললে রুপস্কন্ধ। এই রুপস্কন্ধ জড়বস্তু। ইহা জড়। জগতের জড়বস্তু। হাত, পা , দেহ , মাটি, জল, লৌহ, বৃক্ষ, ফল ইত্যাদি ভৌতিক উপাদানে গঠিত দৃশ্যমান জড়জগত বা জড়বস্তুকে রুপবস্তুর পুঞ্জ বা রুপস্কন্ধ বলা হয় ।রুপ ব্যতীত বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান – এই চারটি অদৃশ্য বস্তু বা বিষয়কে বলা হয় নামবস্তুর পুঞ্জ বা নামস্কন্ধ । ইহা অনুভূতি সঞ্জাত বিষয় ও মন। এটি নামস্কন্ধ ও চিত্ত চেতনা । এটি মনোজগতের মনোবস্তু।


